ব্যাকুলতার বন্দিশ



: অমন কঠিন কথাও তুই বলতে পারিস?

: আমি সব পারি। ওসব আমি নিজের সক্ষমতা থেকে বলি না। যা-কিছু বলতে তীব্র অনুভূতির প্রয়োজন, তা বলে যাই...কেবলই আমার অপারগ সত্তার ঊর্ধ্বে।

: আমার চোখে তুই ভীষণ অন্যরকম।

: তোকে কাছে পেতে চাওয়ার বিষাদময় অসুখের ভিড়ে আমিও ভুলে থাকি নিজের ব্যর্থ এ পথযাত্রা। ক্ষয়ে-যাওয়া সময়ের অসম্ভব কল্পনার মতন আমার এ অনুভবের জায়গা কোথায়, বলতে পারিস? তোর দৃষ্টির প্রখরতা আমার অশ্রু ছুঁয়েছে, তাই আমি মনের অজস্র উপকথার বর্ণিল অগ্নিশিখায় রেখেছি তোকে।

তোকে খুঁজে পেতে কত কত ক্ষণ ঘুণে খেয়ে যায়, শত চেষ্টার হয় প্রতিদ্বন্দ্বিহীন পরাজয়, শত অনিশ্চয়তায় আলোকহীন রজনীর আমৃত্যু কোলাহল থেমে যায় অস্পৃশ্য স্পন্দনে। বেসুরো এ সময়ে তোর বুকে কান পেতে শোনা যায় জাগরিত চেনা-সুরের অনুতাপ।

এ প্রহরে বলছি না বিদায়, বরং একপশলা বৃষ্টিস্নাত বিকেলে বলতে চাই, তোকে ভালোবাসি। বিদায়!

: তোর এক-শো পত্রের নিখুঁত আকুতিতে আমাকে পাবার বড়ো ব্যাকুলতা, তবু আমাকে পেয়েও হারানোর বড্ড উন্মাদনা তোর। কেন উদাসীনতায় রেখে যাস নিজেকে?

: জানা নেই।
Content Protection by DMCA.com